মন্দিরে পশুবলী বন্ধের রায় বিতর্কের মুখে

Janajagaran    30-Sep-2019
মন্দিরে পশুবলী বন্ধের রায় বিতর্কের মুখে
 
নিজস্ব প্রতিনিধি, আগরতলা ঃঃ সম্প্রতি হাইকোর্ট অব ত্রিপুরা রাজ্যের মন্দিরগুলিতে পশুবলী বন্ধের নির্দেশ দিয়েছিল। এই রায়ের পরপরই সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়ে যায়। একটা অংশ এতে ভীষণ খুশি। অন্য একটা অংশ অখুশি।
বলি বন্ধের সমর্থকরা প্রচার করতে থাকেন যে মা কালী বা দূর্গার কাছে মানুষের মত নিরীহ পশুরাও সন্তানসম। মা কোনমতেই তাঁর সন্তানের মাংস খেতে পারেননা। তাই হিন্দুধর্ম কোনমতেই বলির পক্ষে যেতে পারেনা।
 

সামাজিক গণমাধ্যমে যে বিশাল মানুষ ভিন্নমত পোষন করেছেন তাদের বক্তব্য হল, মন্দিরে মুর্গি, পাঠা ইত্যাদি বলি যদি নিষ্ঠুরতা হয় তবে ঈদের সময় গরু কুরবানি দেয়া কোথাকার মানবতা! এই অংশটি দাবি করছেন বলীবন্ধের রায় সব ধর্মের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য হোক। অন্যথায় তা পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে বিবেচিত হবে।
তাছাড়া দীর্ঘলালিত ধর্মবিশ্বাস অনুসারে মানুষ অনেক সময় দেবতার কাছে তার মনোবাসনা পূরন করার জন্য মানত করে। ইচ্ছা পূর্ণ হলে দেবমন্দিরে গিয়ে পশুবলী দেয়া প্রাচিন পরম্পরা।
 
সামাজিক-ধর্মীয় রীতি এতটাই জনপ্রিয় এবং দৃড় যে বলি বন্ধের নির্দেশ শোনার পরেও দলে দলে মানুষ বিভিন্ন মন্দিরে যাচ্ছেন মানত করা পশু নিয়ে।
 
সুতরাং আদালতের রায় এক্ষেত্রে কতটা বাস্তবের মাটিতে রুপায়িত হবে তা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যে ত্রিপুরার রাজ পরিবারের এক সদস্য জানিয়ে দিয়েছেন তিনি সুপ্রীম কোর্টে গিয়ে রায়কে চ্যালেঞ্জ জানাবেন।
সব মিলিয়ে পশুবলী বন্ধের রায় এক প্রবল বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছে বলার অপেক্ষা রাখেনা।