বাঙালি জাতির পুনর্জাগরণ চাইছেন বুদ্ধিজীবিরা

Janajagaran    30-Sep-2019
বাঙালি জাতির পুনর্জাগরণ চাইছেন বুদ্ধিজীবিরা

কোলকাতা ঃ ত্রিপুরা পশ্চিমবঙ্গ, আসামসহ সমগ্র ভারতে হিন্দু বাঙালিদের মধ্যে জাতিয় ঐক্য নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করতে শুরু করেছেন সমাজের বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা। সম্প্রতি একটি সাধারণ জনমত যাচাই প্রকৃয়ায় দেখা গেছে যে বাঙালির পুনর্জাগরণ একান্ত জরুরী বলে মনে করছেন অধিকাংশ চিন্তাবিদ। তাঁদের মতে, স্বাধিনতা আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখলেও বাঙালিরা স্বাধিনতা-পরবর্তী সময়ে তার উপযুক্ত মর্যাদা পায়নি। একটা গোপন পরিকল্পনার অন্তর্গত চেষ্টায় জাতীয় জীবনের অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ জায়গা থেকে তাদের দূরে ঠেলে দেয়া হয়েছে। প্রায় জোর করে নেতাজী'কে সরিয়ে দেয়ার পর শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জিকেও পূর্বপরিকল্পিতভাবেই সরানো হয়েছে।
যে বাঙালি সমাজ সবচেয়ে বেশি সংখ্যায় বলিদান দিয়েছে মুক্তিসংগ্রামে এবং দেশকে আদর্শ চিন্তা-চেতনায় এবং উন্নত আদর্শে পুষ্ট করেছে সেই বাঙালিকে পরবর্তী সময়ে একরকম জোর করেই নেতৃত্বের আসন থেকে অপসারিত করা হয়েছে।
 

নিশ্চিৎ করা হয়েছে কোন বাঙালি যেন দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে না পারেন। এমনকি, কোন জাতীয় রাজনৈতিক দলের সর্বভারতীয় সভাপতির পদেও বসতে দেয়া হয়নি। ফলে দিল্লীতে বাঙালির কন্ঠস্বর ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছে। আজ যখন জাতীয় নাগরিকপঞ্জী অর্থাৎ এনআরসি'র চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর আসামে ১১ লক্ষ হিন্দু বাঙালি অসহায় হয়ে গেছে তখন সারা দেশে কোন প্রতিবাদ আন্দোলন নেই। কারুর কোন হেলদোল নেই। কেননা, দিল্লীতে গর্জন করার মতো কোন শ্যামাপ্রসাদ নেই।
 
পরিস্তিতি এতটাই চিন্তাজনক যে আজ দীর্ঘ মুখ লুকিয়ে থাকা বাঙালি বুদ্ধিজীবি সমাজ আড়ালে-আবডালে বলতে শুরু করেছেন যে জাতটির নবজাগরণ একান্ত প্রয়োজন।
 
সাম্প্রতিক মতামত যাচাইয়ে এই চিন্তার ছাপ স্পষ্ট দেখা গেছে।
 
এন আর সি আর যাই করুক আর না করুক, অন্তত হিন্দু বাঙালির মধ্যে অস্তিত্বের চিন্তা জাগিয়ে একতার অনুভব সৃষ্টি করতে পেরেছে, এটাই লাভের।